প্রথমে আসি তুরস্কে কেন আসবেন? কিভাবে আসবেন? আমার মনে হয় তুরস্ককে তখনই বাছাই করতে পারেন যখন আপনার নিয়ত শুধু পড়াশোনা করা। বাবার টাকা আছে কিংবা দেশে আয়ের সোর্স আছে, এখানে বসে পড়াশোনা করবেন আর নিজেকে গড়বেন তাহলেই কেবল সেলফ ফান্ডিং-এ তুরস্কে আসতে পারেন।

এখানে পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। মাসে ১০-১৫ হাজার টাকায় রাজার হালেই থাকতে পারবেন। আর টিউশনও ফিও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব বেশি না, সহনীয় পর্যায়ে।
পাশাপাশি স্কলারশিপ পেলে আসতে পারেন। যদি দেশে টাকা পাঠাতে না হয় এবং সিঙ্গেল হয়ে থাকেন তবে লাইফ হবে পুরো ফোর স্টার-ফাইভ স্টার মানের। কিন্তু যদি দেশে টাকা পাঠাতে হয়, বিবাহিত হন অথবা এখানে পরিবার নিয়ে থাকতে চান তবে ভালোই কষ্ট করতে হবে। বিশেষত পিএইচডি পর্যায়ে তারা যে স্কলারশিপ দেয় তা সিঙ্গেল একজন মানুষের জন্য সুপার এনাফ হলেও বিবাহিত কিংবা পরিবারকে সহায়তার জন্য মোটেই উপযুক্ত না।

বিবাহিতদের ক্ষেত্রে এখানে পরিবার নিয়ে থাকা কিংবা দেশে পরিবার মেইনটেইন করা দুটোই কঠিন।

তবে, যদি এমন হয় যে, আপনি বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা দেশে যেকোনো পেশায় মাসিক বেতন চলমান তাহলে আপনি তুরস্ককে বাছাই করতে পারেন। এখানে বসে পড়াশোনা করবেন, গবেষণা করবেন এবং এখানের আয় দিয়ে এখানে সিঙ্গেল লাইফ লিড করবেন বা পরিবার আনলে দেশ থেকে মাসে মাসে কিছু আনতে পারবেন তবে খুব সুন্দর জীবন হবে আপনার। আবারও বলছি এখানে স্কলারশিপ থেকে বিবাহিত জীবন ভালোভাবে চালাবেন (দেশে হোক, এখানে হোক) কিংবা পরিবারকে টাকা দেবেন, এটা সম্ভব না।

তুরস্কে যারা আসতে চান এ বিষয়গুলো মাথায় থাকলে ভালো। আবেগের বর্শবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।

আর চটকদার বিজ্ঞাপন কিংবা নানা কনসালটেন্সির নানা প্রতিশ্রুতিতে দয়া করে কান দেবেন না। পাশাপাশি তুরস্কে আসতে সরকারি স্কলারশিপ পেলে কোনো খরচ লাগে না (সামান্য মেডিক্যাল ফি ছাড়া)। আর নিজ খরচে আসলে শুধু এম্বাসির ভিসা ফি, মেডিক্যাল ফি, বিমান ভাড়া, কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইনভাইটেশন পাঠাতে সামান্য কিছু টাকা নেয়।

সবমিলে হয়তো আসার সময় এক থেকে দেড় লাখ টাকা, খুব বেশি লাগলে এক সেমিস্টার ফিসহ দুই লাখই লাগল (একদম সর্বোচ্চ)। এর বাইরে পুরো টাকাই কনসালটেন্সির ধান্ধাবাজদের, সিন্ডিকেটদের।

আমি প্রায়ই দেখি ছয়-সাত-দশ লাখ টাকা পর্যন্ত চায় এরা। আরে ভাই, কেন আপনি এত টাকা দিয়ে আসবেন এখানে! কি লাভ! আপনি যে উদ্দেশ্যে (টাকা কামানোর নিয়তে) আসছেন তার কিছুই পাবেন না এখানে। পুরো অনার্স লাইফে সারাদিন খেটেখুটে যা কামাই করবেন (যদি অনেক কষ্ট করে চাকুরি পান এরপরের কথা বলছি) তাতেও আসার টাকা শোধ হবে না।

সুতরাং সেলফ ফান্ডিং-এ আসার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন। টাকা কামানোর চিন্তা থাকলে তুরস্কের কথা মাথা থেকে আপাতত বাদ দিন। চীনে যান, ইউরোপের দেশগুলোতে যান।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলি।

নানা কনসালটেন্সি এবং সুযোগসন্ধানীরা কখনো কখনো আমাদের সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এই যে, ‘আমি হাফিজ ভাইয়ের ফ্রেন্ডলিস্টে আছি, দেখেন…’, ‘আমি হাফিজ ভাইয়ের অমুক আত্মীয়…’, ‘হাফিজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। এই যে দেখেন আমাদের অনার্স লাইফে একসঙ্গে ছবি’, ‘হাফিজ ভাই কিন্তু আমাকে চেনেন…আপনি তুরস্কে গিয়ে যেকোনো সমস্যায় শুধু হাফিজ ভাইকে নক করবেন, দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে’।

এগুলো কনসালটেন্সি কিংবা সুযোগসন্ধানীদের কিছু কমন ডায়ালগ। দয়া করে এগুলো শুনবেন না। এই লেখা পড়ার পর থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কিংবা বিচার নিয়ে আমার কাছে কেউ আসবেন না। বলবেন না যে, আপনার পরিচয়, আত্মীয়তা অমুক-অমুক, তমুক-তমুক ব্যবহার করেছে, কিংবা আমি এসে ফেঁসে গেছি, অমুক ফেঁসে গেছে।

আপনি যেই হোন না কেন, প্লিজ। আমি কনসালটেন্সি কিংবা সুযোগসন্ধানীকে কখনো জায়গা দেই না, দেবো না। সে যেই হোক, যে মানের মানুষই হোক। স্যরি! এ বিষয়ে কেউ নক করবেন না।

আমার শেষ প্যারার শব্দগুলো খুব কঠিন, আমি জানি। অনেকে হয়তো বলবেন, নিজেকে অনেক বড় মনে করছি। না, নিজেকে বড় মনে করছি না। বরং নানা অভিজ্ঞতা এবং তিক্ততা থেকে লিখছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০২১
আরআইএস