দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ এবং কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লা। তিনি বলেন, ‘এইবার আসলেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি। ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাবা-মায়ের যদি উদ্বেগ দেখেন, সহ্য করা খুব কঠিন। কারণ তারা মনে করে তাদের বাচ্চা বাঁচবে কিনা। দিস ইজ ভেরি পেইনফুল সিচুয়েশন। এর থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।’

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে একাত্তর টিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন ফারজানা রূপা। অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকও উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সারাদেশে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। করোনা ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মধ্যে খোলা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে স্কুল-কলেজগুলো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা কতটুকু সুরক্ষিত থাকবে বা তাদের সুরক্ষার জন্য আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আজকের একাত্তর জার্নালের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ডেঙ্গুতে শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে লার্ভা নিধন সবচেয়ে বেশি দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে—এ কথা আমরা আগেই বলেছিলাম। সেটা করা হচ্ছে। এ জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ডিজিকে ধন্যবাদ। তবে শুধু লার্ভা নিধন করলে হবে না। মশা জন্মানোর পর তা যেন কামড়াতে না পারে এ জন্য ক্লাস শুরুর আগে রুম স্প্রে করতে হবে। ক্লাস রুমে যেন পর্যাপ্ত আলো থাকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আলোর ওপর এডিস মশার আনাগোনা নির্ভর করে। ফুল হাতা জামা ও প্যান্ট পরতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার মতো শিশুদের মধ্যে অন্যরোগ থাকলে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে। যেসব শিশুদের করোনা বা ক্যানসার আছে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি।’