ফিচার হচ্ছে মানবিক আবেদনধর্মী সরস রচনা। গতানুগতিক সংবাদ থেকে ভিন্ন, তথ্যবহুল, ভিন্নধর্মী লেখনশৈলীবিশিষ্ট প্রতিবেদনকে ফিচার বলা হয়। ফিচার যেকোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তির ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে পাঠককে ঐ ঘটনা বা ব্যক্তি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ করে দেয়। পত্রিকার নিত্যদিনের গতানুগতিক সংবাদ আর ফিচার, দুটো লেখার প্রক্রিয়া ও শৈলী আলাদা। সাধারণ সংবাদকে বলা হয় হার্ড নিউজ আর ফিচারকে বলা হয় সফট নিউজ বা হিউম্যান-ইন্টারেস্ট-স্টোরি। সংবাদ লেখার জন্য সাংবাদিককে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া, উল্টো পিরামিড কাঠামো (Inverted Pyramid Structure) মেনে চলতে হয়, কিন্তু একজন ফিচার লেখক নিজের ইচ্ছেমতো সুললিত ও আলংকারিক ভাষায় ফিচার লিখতে পারেন। শব্দ ও বাক্যের খেলায় যে যত পটু, তার ফিচারটি হয়ে ওঠে তত বেশি সরস।

ফিচারের প্রকারভেদ

বিভিন্ন ঘরানার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে ফিচার আর্টিকেল লেখা যেতে পারে। এখানে ফিচারের কয়েকটি প্রকার দেওয়া হলো।

মানবিক আবেদন (Human Interest): যেসব ফিচার স্টোরি সরাসরি মানুষের আবেগকে স্পর্শ করে সেগুলো এ পর্যায়ে পড়ে। এ ধরনের ফিচার স্টোরি পড়ে মানুষ আবেগাপ্লুত হয়। এই ফিচারগুলো একজন মানুষকে নিয়ে যেমন লেখা সম্ভব তেমনি একটি দল বা সম্প্রদায়কে নিয়েও লেখা যায়। পথশিশুদের ইদ উদযাপনের ব্যর্থতা নিয়ে একটি ফিচার লিখলে সেটা পড়ে পাঠকের ওই শিশুদের জন্য কষ্টবোধের অনুভূতি হতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি যদি কয়েকজন পথশিশুকে ইদ উদযাপনের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে সেই কাহিনী পড়ে পাঠক আনন্দিত হবেন। অর্থাৎ এ ধরনের ফিচারগুলো পড়ে মানুষ দুঃখ বা সুখ, উভয় অনুভূতিই পেতে পারেন।

প্রোফাইল (Profile): এই ধরনের ফিচারে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা হয়। বিশেষত সেলিব্রিটি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ, দেশ বা পৃথিবীর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবনাচরণের ওপর আলোকপাত করা হয় এসব ফিচারে। এই ফিচারগুলো পড়ে পাঠক নিজেকে সেই ব্যক্তির স্থানে কল্পনা করতে পারেন। তবে মনে করা হয়, এ ধরনের ব্যক্তিবিশেষের ওপর করা ফিচারের ক্ষেত্রে লেখককে খুব কাছ থেকে ওই ব্যক্তির জীবন পর্যালোচনা করতে হয়।

নির্দেশনামূলক (Instructional): এই ধরনের ফিচারগুলোকে বলা হয় ‘হাউ টু’ (how to) ফিচার। পাঠককে কোনো একটি কাজ কীভাবে করতে হয় তা শেখাতে এই ধরনের ফিচার লেখা হয়। বর্তমান ফিচারটিও একটি নির্দেশনামূলক ফিচার।

ঐতিহাসিক (Historical): ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাকে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হয় এই ফিচারগুলোতে। বর্তমানের পাঠককে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আয়াসসাধ্য কাজটি করে থাকে ইতিহাস সম্পর্কিত সুলিখিত একটি ফিচার।

সাময়িক (Seasonal): বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু ফিচার লেখা হয় যেগুলো অন্য সময় লিখলে তাতে পাঠকের খুব একটা কাজে আসে না। যেমন- বিভিন্ন দিবসের সময় ঐ দিবসটির মাহাত্ম্য নিয়ে লেখা ফিচার। আবার সমাজে হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা কোনো রোগ, সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে লেখা ফিচারও এই প্রকারভুক্ত। যেমন- শীতকালে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে ফিচার লেখা বা সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন অগ্নিজনিত দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে ফিচার।

ঘটনার পেছনের ঘটনা (Behind the Scenes): পর্দার আড়ালের অজানা গল্প নিয়েও লেখা যায় ফিচার। যেসব ঘটনা মানুষের কাছে সুবিদিত সেসব ঘটনার পেছনের ঘটনা হয়তো মানুষ জানে না। যেমন- টাইটানিক (১৯৯৭) সিনেমাটি সবাই দেখেছে, সিনেমার কাহিনী অনেকেরই মুখস্ত। কিন্তু এই সিনেমা বানানোর গল্প কিন্তু অনেকেই জানে না। সিনেমাটি কীভাবে বানানো হয়েছিল তা নিয়ে একটি দারুণ ফিচার হতে পারে। এভাবে জানা ঘটনার অজানা ইতিহাস ফিচার লেখার উপকরণ হয়ে উঠে।

ফিচার লেখার ক্ষেত্রে নিয়মের যথাযথ ব্যবহারের চেয়ে লেখকের লেখনশৈলী বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে লেখক যত আকর্ষণীয়ভাবে তার মনের ভাব লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন তার ফিচার তত বেশি সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে। তারপরও ফিচার লেখার কাজটা শুরু করার জন্য আপনি কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করতে পারেন। এই ফিচারে ফিচার লেখার নিয়মগুলো বর্ণনা করা হলো।

807 বার দেখা হয়েছেআপভোট দেখুনশেয়ার দেখুন
সম্পর্কিত উত্তর
সম্পর্কিত উত্তর
সিদ্ধার্থ সজল-এর জন্য প্রোফাইল ফটো
সিদ্ধার্থ সজল
, বিএসএস (B.S.S.) Folklore, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (2019)
6 আগস্ট, 2021 এ উত্তর দেওয়া হয়েছে · লেখকের 474টি উত্তর রয়েছে ও 8.7 লা বার সেগুলি দেখা হয়েছে
আনন্দ বাজার পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কী? ভারতের উদার, নিরপেক্ষ, জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকা কোনগুলো?
এটির আসল উত্তর ছিল: আনন্দ বাজার পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কি? ভারতের উদার, নিরপেক্ষ,জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকা কোনগুলো?
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর জানা নেই, প্রথম প্রশ্নের বিষয়ে কিছু লিখছি।

আমার দৃষ্টিতে আনন্দবাজার একটি চরম সাম্প্রদায়িক পত্রিকা। অন্তত এর ডিজিটাল ভার্সন দেখে তাই মনে হয়। এই পত্রিকা বাংলাদেশ নিয়ে মাঝেমধ্যেই উল্টাপাল্টা সংবাদ ছাপায়। এটা নাকি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা!

এই পত্রিকা বাংলাদেশীদের দু’টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে-

১. ভারতপন্থী

২. পাকিস্তানপন্থী

বাংলাদেশের যারা রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে ভারতের সমালোচনা করেন তাদেরকে আনন্দবাজার পাকিস্তানপন্থী বলে মনে করে। আর যারা আনন্দবাজারের ভাষায় এই পাকিস্তান পন্থীদের বিরোধিতা করেন তাদেরকে ভারতপন্থী হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

এই পত্রিকা অনেক ইসলামবিদ্বেষী প্রোপাগাণ্ডাও ছড়িয়ে থাকে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় স্কলার শায়খ আহমদুল্লাহকে “ধর্মীয় গুরু” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার একটা বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আংশিকভাবে উপস্থাপন করে চরিত্রহননের চেস্টা করেছে। প্রকৃতপক্ষে শায়খ আহমদুল্লাহ কোনো ধর্মীয় গুরু নন, তিনি একজন স্কলার এবং বক্তা। কিন্তু আনন্দবাজার পত্রিকা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে।

তাছাড়া চীনের বাংলাদেশকে কিছু পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিকে খয়রাতি হিসেবে উল্লেখ করে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল আনন্দবাজার।

আনন্দবাজারের ডিজিটাল সংস্করণের কিছু কন্টেন্ট দেখে এটাকে একটা সি গ্রেডের অনলাইন পোর্টাল মনে হলেও হতে পারে। কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল নায়িকা বা তারকাদের বডি শেমিং করে যেভাবে চটকদার হেডলাইন দিয়ে স্যোসাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালায়, আনন্দবাজারের ডিজিটাল সংস্করণেও এমনটা দেখা যায়।