লেখালেখিতে অনেকেরই আগ্রহ আছে,ভালোবাসা আছে। অনেকের লেখা পত্রিকাতে ছাপাও হয় আবার অনেকে আছে যারা জানেই না লেখা কিভাবে পত্রিকাতে পাঠাতে হয়। এছাড়াও যারা জানে লেখালেখি বিষয়ে, তাদের কাছে প্রশ্ন করলে অধিকাংশই উত্তর দিতে চায় না। সে ক্ষেত্রে নবীনদের কিংবা যারা জানতে আগ্রহী তাদের কাছে বিষয়টি অজানাই থেকে যায়। আমাকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য লেখক বন্ধু মেসেজ দিয়ে থাকেন নানা বিষয় নিয়ে। পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদকদের পক্ষ থেকে সে সব প্রশ্ন একসাথে করে উত্তর দিতে চেষ্টা করছি। কারণ লেখা ছাপা হওয়া না হওয়া নিয়ে সব থেকে বেশি দোষারোপ করা হয় সম্পাদকদের।

প্রশ্নঃ লেখা পত্রিকায় কিভাবে পাঠাবো?
=> কম্পিউটার কম্পোজ করে, ইমেইলে অথবা কুরিয়ারে অথবা সরাসরি পত্রিকা অফিসে গিয়ে লেখা জমা দেওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে। ইমেইলে লেখা পাঠালে অবশ্যই সেটা ওয়ার্ড ফাইলে ইমেইলে ফাইল এটাচ করে পাঠাতে হবে। কোন ভাবেই ইমেইলের টেক্সট এরিয়াতে লেখা পাঠানো যাবে না। টেক্সট এরিয়াতে শুধু আপনি কি বিষয়ে লিখেছেন তার একটা সামারি দিতে পারেন যেন সেটা পড়ে সম্পাদক বুঝতে পারেন যে আপনার লেখাটা কোন বিষয় নিয়ে লেখা।

প্রশ্নঃ ইমেইল ঠিকানা পাবো কোথায়?
=> লেখক যেহেতু হতে চান সেহেতু নিজেকেই একটু পরিশ্রম করতে হবে। আগে সিদ্ধান্ত নিন কোন বিষয় নিয়ে কোন পত্রিকায় লিখবেন, তার পর এক সপ্তাহ সেই পত্রিকা ফলো করুন ইমেইল ঠিকানা পত্রিকার নির্দিষ্ট পাতার উপরের দিকে দেওয়া থাকে। দু একটা পত্রিকা ছাড়া সবার ক্ষেত্রেই ইমেইল উল্লেখ থাকে।
প্রশ্নঃ কম্পোজ করলে সুতুনী এমজে ফন্টেই হতে হবে, নাকি অন্য ফন্ট হলেও চলবে?
=> পত্রিকা ভেদে পার্থক্য দেখা যায়। তবে সুতুনী এমজে ফন্টে বিজয় দিয়ে লিখলেই ভালো হয়। অভ্র দিয়ে লিখলেও কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ লেখা পাঠানোর কতদিনের মধ্যে ছাপা হবে?

=> এটা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। সাধারণত তিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ছাপা হয়। (এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে জানাবো একদিন) তবে ত্রিশ দিন পেরিয়ে গেলে ধরে নিতে হবে ছাপা হবে না। তবে কোন কোন পত্রিকা তিন মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে। মানে কোন কোন পত্রিকা লেখা জমা হওয়ার তিন মাসের মধ্যে লেখা ছাপতে পারে।
প্রশ্নঃ লেখা ছাপা হলে পত্রিকা থেকে জানানো হবে কি না?
=> দুই তিনটা ইংরেজী পত্রিকা ছাড়া কেউ লেখা ছাপা হলে জানায় না বরং নিজ থেকে জেনে নিতে হয়। মানে পত্রিকা নিয়মিত চেক করতে হয়। তবে যারা খ্যাতিমান লেখক তাদের লেখা ছাপা হলে জানিয়ে দেওয়া হয়। আবার খ্যাতিমান না হলেও কোন পত্রিকার নির্দিষ্ট বিভাগে দীর্ঘদিন লিখলে তাদেরকে অনেক সময় জানিয়ে দেওয়া হয়।

প্রশ্নঃ লেখার নিচে লেখক পরিচিতি কিভাবে দিতে হয়?
=> পত্রিকায় লেখা ছাপা হলে নিচে লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকে। মুলত পত্রিকা থেকেই ওটা দিয়ে থাকে। তবে আপনার দায়িত্ব হলো লেখার একদম নিচে আপনি কি করেন,কোথায় পড়াশোনা করেন, আপনার মোবাইল নাম্বার সহ সেটা লিখে দিবেন। যেমন আপনি ছাত্র হলে লিখবেন অমুক বিভাগ অমুক বিশ্ববিদ্যালয়। তাহলে লেখা ছাপা হলে তখন সেই লেখার নিচে থাকবে লেখক ছাত্র অমুক বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশ্নঃ একই লেখা কি একাধিক পত্রিকায় পাঠানো যাবে?

=> না পাঠানো যাবে না। এতে অনেক সমস্যা হয়। যদি কোন একটি পত্রিকায় একই লেখা ছাপা হওয়ার পর সেটা না জানা থাকার কারণে অন্য পত্রিকা ছাপে এবং পরে বুঝতে পারে যে লেখাটা অন্য পত্রিকাতেও ছেপেছে আগেই তখন ওই দ্বিতীয় পত্রিকা আপনার লেখা আর ছাপাবেনা। তবে জাফর ইকবাল স্যারদের মত লেখকদের লেখা একই দিন সব পত্রিকাতে ছাপাতে পারে সেটা আলাদা ব্যাপার।
প্রশ্নঃ লেখা ছাপাতে টাকা লাগে কি না?
=> না লেখা ছাপাতে কোন টাকা লাগে না। বরং ক্ষেত্র বিশেষে লেখার সম্মানী পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ হাতে লিখে পাঠালে সেই লেখা ছাপানো হয় নাকি ফেলে দেওয়া হয়?
=> মানসম্মত হলে অবশ্যই ছাপানো হয় তবে শর্ত হলো এফোর সাইজের কাগজে দুই দিকে মার্জিন রেখে কাগজের এক পৃষ্ঠায় লিখতে হবে।
প্রশ্নঃ একটি লেখার জন্য কত সম্মানী দেওয়া হয়?

=> এটা নির্ভর করে অনেক কিছুর উপর। ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশিও হতে পারে। আমি সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে একটি লেখার জন্য ১০ হাজার টাকা অব্দি পেয়েছি।

প্রশ্নঃ কোন ধরনের লেখার জন্য টাকা দিয়ে থাকে?
=> ক্ষেত্র বিশেষে সব ধরনের লেখার জন্যই টাকা দিয়ে থাকে, যদি লেখক খ্যাতিমান কেউ হন। আবার অনেক সময় পিত্রিকা ভেদে খ্যাতিমানদেরও সম্মানী দেওয়া হয় না! তবে সাধারণত অনুবাদ এবং ফিচারের জন্য টাকা দেওয়া হয়। এর বাইরে গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধ এবং নিবন্ধের জন্যও টাকা দেওয়া হয়। আবার কোন কোন পত্রিকা এর কোনটার জন্যই আপনাকে টাকা দিবে না।
প্রশ্নঃ তাহলে কোন কোন পত্রিকা কোন কোন বিষয়ে টাকা দেয়?

=> অনুবাদ এবং ফিচারের ক্ষেত্রে প্রায় সব পত্রিকাই টাকা দেয়। সেক্ষেত্রে পত্রিকার ফিচার বিভাগের সাথে আগে থেকে কথা বলে নিতে পারেন। ফিচারের জন্য কালের কন্ঠ,আমাদের সময়,প্রথম আলো টাকা দেয়।
প্রশ্নঃ সম্পাদক কি বিষয় নির্ধারন করে দেন কিংবা লেখা চেয়ে নেন?

=> সম্পাদক তখনই লেখা চেয়ে নিবেন যখন আপনি লেখালেখিতে অনেক পরিচিতি লাভ করবেন এবং তার বিভাগে এর আগে অনেক অনেক লেখার অভিজ্ঞতা জমা হলে সে ক্ষেত্রে সম্পাদক নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লিখতে বলতে পারেন।
প্রশ্নঃ লেখা কত সময়ের মধ্যে পাঠানো উচিত?
=> নিয়মিত লেখকদের ক্ষেত্রে ডেডলাইনের অন্তত একদিন আগেই লেখা পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ সম্পাদকেরা পরিকল্পনা করে রাখেন আগামী সংখ্যায় কি কি লেখা ছাপা হবে। তো নির্ধারিত কোন লেখক যদি ডেডলাইনের মধ্যে লেখা জমা না দেয় তখন সম্পাদককে বিপদে পড়তে হয়। এটা খুব গুরুত্বপুর্ন বিষয়।

প্রশ্নঃ লেখা পাঠিয়ে কি সম্পাদককে নক দেওয়া উচিত ছাপার বিষয়ে?
=> না কোন ভাবেই উচিত নয়।
প্রশ্নঃ সম্পাদকের সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকলে কি লেখা ছাপে?
=> হাতে গোনা কয়েকজন সম্পাদক বাদে সব সম্পাদক লেখা বিবেচনা করে ছাপেন। সে ক্ষেত্রে সম্পর্ক কোন বিষয় না। আর সব লেখকদের সাথেই সম্পাদকের ভালো সম্পর্ক থাকে কিন্তু তার তো সবার লেখা ছাপানোর মত সুযোগ নেই, জায়গাও নেই।
প্রশ্নঃ সম্মানীর টাকা কিভাবে দেওয়া হয়?

=> অধিকাংশ পত্রিকা মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় পর পর লেখকের নামে চেক দিয়ে থাকে। তবে কোন কোন পত্রিকা বিকাশেও টাকা দিয়ে থাকে। আবার পত্রিকা অফিস থেকেও সংগ্রহ করা হয়।
প্রশ্নঃ ছদ্মনামে লিখলে কি টাকা পাওয়া যায়?

=> অবশ্যই পাওয়া যায়, তবে সেই টাকা আপনি হজম করতে পারবেন না কারণ যে সব পত্রিকা চেক ইস্যু করে তারা লেখকের নামে চেক লিখে একাউন্টপেয়ি হিসেবে দিয়ে থাকে। একাউন্ট পেয়ি চেকের ক্ষেত্রে চেকের উপর যে নাম থাকে হুবহু ওই নামে কোন ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হয়। আপনি ছদ্মনামে লিখলে নিশ্চই ব্যাংক একাউন্ট করতে পারবেন না ফলে চেক পেলে সেটার টাকাও পাবেন না।
প্রশ্নঃ অনেক লেখা পাঠাই একটাও ছাপা হয় না কেন?

=> এর অনেক গুলো কারণ থাকতে পারে যেমন লেখা সময়োপযোগী নয় কিংবা পাতা সংশ্লিষ্ট নয় কিংবা আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। ধরুন আপনি সাহিত্য পাতার জন্যই একটি ভালো গল্প লিখলেন। সম্পাদক ধরে নিলো সেটা আগামী সংখ্যায় ছাপবেন কিন্তু সেই আগামী সপ্তাহের প্রস্তুতি শুরুর সময়ে বিখ্যাত কোন লেখকের প্রয়াণ ঘটলো সে ক্ষেত্রে সেই লেখাটিকে স্থগিত করে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে হয়। আবার দেখা গেলো আপনি যে লেখাটি পাঠিয়েছেন তা বেশ বড়,জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না। আপনার লেখাটা দিতে গেলে অন্য কোন লেখাই দেওয়া যায় না আবার না দিলে জায়গা ফাঁকা থাকে। সে ক্ষেত্রে লেখা অপেক্ষায় থাকে । সব কিছু মিলে গেলে ছাপা হয়। আর আপনার লেখাটি আপনার কাছে মানসম্মত মনে হলেও সম্পাদকের কাছে মানসম্মত নাও লাগতে পারে।

তাই ছাপা না হলে দোষ না দিয়ে বরং আরও আরও লিখতে থাকুন এবং নিয়মিত পাঠাতে থাকুন। লেখা ছাপা হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আপনার লেখার মানই একমাত্র কথা নয় বরং পত্রিকার পাতার ধারণক্ষমতা,প্রকাশের সমসাময়িক অবস্থা সহ অনেক কিছু নির্ভর করে। যেমন কবিতা পাঠানো হলো সম্পাদকীয় পেজে তা নিশ্চই ছাপানো সম্ভব নয় আবার সম্পাদকীয় পাঠানো হলো কবিতার পেজে। ছোটদের পাতার জন্য লিখলেন রোমান্টিক গল্প বা কবিতা তা নিশ্চই ছাপানো সম্ভব নয় আবার সাহিত্য পাতায় লেখা পাঠালেন সেটা ছড়া বা ছোটদের জন্য লেখা গল্প সেটাও ছাপানো সম্ভব নয়। স্থান,কাল,পাত্র বিবেচনা করে পাঠাতে হবে। এছাড়াও পাঠানোর নিয়মকানুনের ভুলের কারনেও লেখা ছাপা হয় না। যেমন লেখা ইমেইলে ওয়ার্ড ফাইলে এটাচ করে না পাঠিয়ে আপনি যদি গুগল ড্রাইভের লিংক দিয়ে পাঠান তো সম্পাদকের খেয়ে দেয়ে কাজ নেই আপনার সেই লেখা ড্রাইভে গিয়ে ডাউনলোড করবে। কিংবা লেখা পাঠানোর কথা এটাচ করে তা না করে আপনি ইমেইলের টেক্সট বক্সে লিখে পাঠালেন। এগুলো যথাযথ নয়।

প্রশ্নঃ কোন ধরনের লেখায় কত শব্দ হওয়া উচিত?
=> কবিতা বা ছড়া হলে যতটা সম্ভব ছোট রাখা উচিত। সম্ভব হলে আট থেকে বার লাইন। গল্প হলে সাহিত্য পাতার জন্য ৬০০ শব্দ থেকে ২০০০ শব্দের মধ্যে হলে ভালো হয়। ছোটদের পাতার জন্য হলে অবশ্যই ৬৫০ শব্দের মধ্যে লিখবেন। আর ফিচার হলে শব্দ সংখ্যা ফিচার পাতা ভেদে ২৫০ থেকে ৬৫০ শব্দের মধ্যে হওয়া উচিত। আর মতামত বা সম্পাদকীয় পাতায় লিখতে হলে সব সময় চেষ্টা করবেন ৬৫০ শব্দের মধ্যে লিখতে। লেখার শব্দ সংখ্যা কম হলে ছাপা হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। আর মানসম্মত হলেও শব্দ সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে লেখাটি ছাপানো হয় না।

প্রশ্নঃ কলাম বা নিবন্ধ লিখতে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিলে ছাপা হতে পারে?
=> সমসাময়িক বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন গুরুত্বপুর্ন কোন স্থাপনায় আগুন লেগেছে আপনি সেটা নিয়ে সেদিনই লিখে পাঠাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে লেখা ছাপা হওয়ার সম্ভাবনা ৯০% যেমন কেন অগ্নিকান্ড ঘটে এর আগে কোথায় কেমন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, আগের ক্ষতি দেখার পরও কেন সাবধানতা অবলম্বন করা হয়নি। এমন ভয়াবহতা থেকে বাচার উপায় কি? মূল কথা হলো আপনি যে বিষয়ে লিখবেন সে বিষয় গুলো নিয়ে পড়াশোনা করে সমস্যা ও সামাধানের পথ বাতলে দিতে চেষ্টা করবেন। লেখা পাঠাতে গড়িমসি করলে ছাপা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। গরম কালে লেপ বিক্রির চেষ্টা করার মত অনেকটা।
প্রশ্নঃ কতগুলো লেখা ছাপা হলে তার পর থেকে টাকা দিবে?

=> আগেই বলেছি প্রথম লেখা থেকেও আপনি টাকা পেতে পারেন যদি লেখাটা হয় ফিচার বা অনুবাদ। এছাড়া বাকি গুলোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই। অনেক ক্ষেত্রে ফিচার লিখলেন কিন্তু এমন কোন পত্রিকাতে লিখলেন যারা কোন সম্মানী দেয় না তখন কোন লাভ হবে না। আপনি ফিচার সম্পাদক বরাবর ইমেইল করতে পারেন যে আপনি ফিচার লিখতে আগ্রহী এবং সম্মানীর ভিত্তিতে যে কোন ধরনের ফিচার লিখে দিতে পারবেন তাহলে তারা আপনাকে ফিডব্যাক দিবে। যেমন আমি যে কোন বিষয়ে ফিচার লিখতে বললে কোন দিন না করি না। এবং আমাকে তিন দিন সময় দিলে আমি তিন ঘন্টার মধ্যেই লিখে পাঠিয়ে দিতে চেষ্টা করি। এতে করে সম্পাদক বুঝতে পারে আমি লেখালেখির প্রতি কতটা আগ্রহী বা ডেডিকেটেড। ফলে তার আস্থা অর্জন করা যায় এবং তিনি অন্যদের তুলনায় আমাকে আরও বেশি লিখতে অনুপ্রেরণা যোগান।

প্রশ্নঃ আমি লিখতে পারি না তবে ছবি আঁকতে পারি। ছবি ছাপানোর কোন সুযোগ আছে?
=> বড়দের আঁকা ছবি ছাপানোর খুব বেশি সুযোগ নেই তবে ছোটদের আঁকা ছবি ছাপানোর দারুন সুযোগ আছে। দৈনিক ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসরে প্রতি শুক্রবার ছোটদের আঁকা ছবি ছাপানো হয়। এছাড়া কালের কন্ঠের টুনটুনটিনটিন,প্রথম আলোর গোল্লাছুট এবং যায়যায়দিনের হাট্টিমাটিমটিমে ছোটদের আঁকা ছবি নিয়মিত ছাপা হয়।
প্রশ্নঃ কোন ধরনের লেখা কোথায় পাঠাতে হয়?

=> ফিচার হলে ফিচার পাতার জন্য, গল্প,কবিতা হলে সাহিত্য পাতার জন্য,ভ্রমন হলে ফিচার পাতার জন্য আর কলাম বা নিবন্ধ হলে সেটা সম্পাদকীয় পাতার জন্য।
প্রশ্নঃ সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাওয়া যায় কোন পত্রিকায়? এবং কোন বিষয়ে?
=> ইত্তেফাকের মতামত বিভাগে সবথেকে বেশি সুযোগ পাওয়া যায়। এই পাতায় প্রতিদিন পাঠকের লেখা ছাপানো হয়। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখলে সব থেকে ভালো হয়। লেখার সাথে অবশ্যই নিজের ছবি,মোবাইল নাম্বার দিবেন এবং বিষয়ের ঘরে লিখবেন “সমকালিন প্রসঙ্গ”
প্রশ্নঃ আমি পত্রিকার বিভিন্ন লাইফস্টাইল বিষয়ক ফিচারে মডেল হতে চাই কি করতে হবে?
=> ফিচার পাতার সম্পাদকের সাথে কথা বলতে হবে।
প্রশ্নঃ ফিচার পাতায় মডেল হলে কি সম্মানী পাওয়া যায়?

=> এই প্রশ্নের দুটো উত্তর হতে পারে। হ্যাঁ এবং না। আপনি নিজে আগ্রহী হয়ে মডেল হলে সে ক্ষেত্রে সম্মানীর আশা ছেড়ে দিন আর পত্রিকা আপনার গ্ল্যামর দেখে আপনাকে ফিচার মডেল হতে বললে আপনি তাদের কাছ থেকে সম্মানী পেতে পারেন বা আশা করতে পারেন। অবশ্য ফিচার মডেল হলে সম্মানীর চেয়ে নিজের প্রচার হচ্ছে এটা ভেবে খুশি থাকাই ভালো। মূলত প্রতিষ্ঠিত মডেলদেরকেই সম্মানী দেওয়ার রীতি আছে। নবীনদের জন্য সম্মানীর সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ আমার অনেক গুলো বই প্রকাশিত হয়েছে তার পরও পত্রিকা আমার লেখা ছাপছে না কেন?
=> প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যার সাথে পত্রিকায় লেখা ছাপা হওয়া না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। লেখার মান এবং উপরে বর্নিত নানা বিষয়ের উপর নির্ভর করে লেখা ছাপা হবে কি হবে না।

প্রশ্নঃ আমি বই প্রকাশ করতে চাই কিন্তু জানিনা কিভাবে করতে হয়?
=> বই প্রকাশ করতে হলে আপনাকে প্রকাশকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। একদিন সময় করে বাংলাবাজারে চলে যান নতুবা কোন প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করতে চান তার ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।
প্রশ্নঃ বই প্রকাশ করতে কি টাকা লাগে?

=> অবশ্যই লাগে আবার লাগে না দুটোই বলা চলে। আপনি জনপ্রিয় হলে আপনার বই ছাপতে কোন টাকা লাগবে না উপরন্তু প্রকাশকই আপনাকে টাকা দিবে। আর আপনি যদি নবীন হন তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে বই প্রকাশ করতে টাকা দিতে হবে। তবে একটা কথা ইদানিং অনেক প্রকাশক পাবেন যারা নবীন লেখকদের বইও বিনা পয়সায় কিছু শর্ত সাপেক্ষে ছাপছেন। তাদের খুঁজে বের করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে নবীনদের কবিতার বই টাকা ছাড়া ছাপানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
প্রশ্নঃ বই প্রকাশ করতে কত টাকা লাগবে?

=> এটা নির্ভর করে কত ফর্মার বই (ফর্মা হলো বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ধরে একটি নির্দিষ্ট হিসাব) এবং কত কপি ছাপানো হবে। এছাড়াও বইয়ের কভার,ইলাস্ট্রেশান সব মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ কপি বই ৪ ফর্মা হলে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এর কমও হতে পারে কিছু বেশিও হতে পারে। আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হয়।
প্রশ্নঃ বিনা পয়সায় নবীনদের লেখা বই প্রকাশে কী ধরনের শর্ত দেওয়া হয়?

=> সাধারণত প্রকাশক চায় প্রকাশিত বই থেকে যেন তার কিছু লাভ হয় এবং লেখকও পরিচিতি লাভ করেন। প্রকাশক আপনার বই প্রকাশ করে নিশ্চই ক্ষতিগ্রস্থ হতে চাইবেন না। সুতরাং অধিকাংশ ক্ষেত্রে শর্ত থাকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বই আপনাকে বিক্রি করিয়ে দিতে হবে। এবং ক্ষেত্রেবিশেষে এমনও চুক্তি হতে পারে যে নির্দিষ্ট সংখ্যক বই বিক্রি করিয়ে দিতে না পারলে আপনাকে সেই পরিমান বইয়ের টাকা পরিশোধ করতে হবে।আবার আগে থেকে প্রকাশনা সংস্থার সাথে দেখা করে যদি নিজের আগের কোনো লেখার নমুনা দেখানো যায় সেক্ষেত্রে প্রকাশক আগ্রহী হবে সেই চান্স বেড়ে যায়। এমনকি ফেসবুকের কোনো লেখাও যদি যথেষ্ট সাড়া ফেলে সেটার লিংক ফরোয়ার্ড করা যেতে পারে প্রকাশক এর ব্যক্তিগত বা প্রকাশনা সংস্থার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে। অনুবাদে দক্ষ হলে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রকাশনা সংস্থার আগ্রহের কোন বই বা লেখক আছে কি না যাচাই করে দেখে চুক্তি করে কাজ শুরু করা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ টাকার বিনিময়ে অথবা বিনা পয়সায় প্রথম বই প্রকাশের পর ভালো বিক্রি হলে পরবর্তী বই প্রকাশে কি সুবিধা পাওয়া যাবে?
=> হ্যা অবশ্যই পাওয়া যাবে। ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করলে স্যারদের সুনজর পড়ে তেমনি প্রকাশক যখন দেখে কোন একজন লেখকের লেখা ভালো চলছে তখন সেই লেখকের পরবর্তী বইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে প্রথম বই টাকা দিয়ে করলে পরবর্তী বই ফ্রিতে করার সুযোগ হতে পারে। আবার প্রথম বই ফ্রিতে করে কোন রয়্যালটি না পেলেও ভালো বিক্রি হওয়ায় দ্বিতীয় বই ফ্রিতে করার সুযোগ আসবে এবং ভালো বিক্রি হলে রয়্যালটিও পাওয়া যাবে।

প্রশ্নঃ প্রকাশকরা কি যে পরিমান বই ছাপানোর কথা সেই পরিমান ছাপে?
=> না এটা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। অনেক সময় কেউ কেউ বেশি ছাপতে পারে আবার কেউ কেউ কমও ছাপতে পারে। টাকার বিনিময়ে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি করে নেওয়া ভালো। অনেক সময় অসৎ লোকের পাল্লায় পড়ে আপনার সৃজনশীল চিন্তাটা থমকে যেতে পারে। আপনি ঠকতে পারেন। প্রশ্নঃ আমার বই প্রকাশ হলে কি সেটা রকমারীতে পাওয়া যাবে? কি করলে রকমারীতে আমার বই পাওয়া যাবে?
=> বইমেলার সময় বই প্রকাশ হলে সাধারণত মেলা থেকেই রকমারির লোকেরা তথ্য সংগ্রহ করে। কোন কারণে আপনার বইয়ের তথ্য ওদের সংগ্রহে না থাকলে আপনি নিজ দায়িত্বে অথবা আপনার প্রকাশকের মাধ্যমে রকমারীতে তথ্য জমা দিলে ওরা হালনাগাদ করে নিবে।
প্রশ্নঃ যে কোন প্রকাশনী থেকে বই প্রকাশ করলে কি তা বই মেলায় পাওয়া যাবে?

=> না পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণত চেষ্টা করবেন বইমেলার সময় কোন কোন প্রকাশনী স্টল বরাদ্দ পায় সেটা দেখে বই প্রকাশ করতে। যে প্রকাশনীর স্টল নেই তাদের প্রকাশিত বই সাধারণত পাওয়া যায় না। আর গেলেও অন্য কোন প্রকাশনীতে থাকে যা খুব বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না।

প্রশ্নঃ বই প্রকাশের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিষয়ে কেমন সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
=> মূলত স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি থাকা ভালো। একান্তই যদি লিখিত চুক্তি করা না যায় তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রকাশকের কাছ থেকে ইমেইলে বিস্তারিত একটি প্রস্তাবনা বা চুক্তি করে নিবেন। অন্তত মেইলে যদি প্রমান হিসেবে থাকে যে এতো টাকার বিনিময়ে এতো কপি বই দেওয়ার কথা কিন্তু দেন নি তাহলে আপনি আইনগত ব্যবস্থা করতে পারবেন নতুবা প্রকাশ যদি কোন ভাবে কম বই দেয় আপনার কিছু করার থাকবে না।তবে মনে রাখবেন স্যোশাল মিডিয়া যেমন মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কোন মেইল বা চুক্তিনামা নিলে লাভ হবে না।
প্রশ্নঃ আমার পরিচিতি কম, এখনি বই প্রকাশ করা ঠিক হবে?

=> এটা একটা কঠিন বিষয়। এর দুটো দিকই আছে। আপনি পরিচিত নন বলে যেমন বই প্রকাশ করা ঠিক হবে না ঠিক তেমনি আপনি বই প্রকাশ না করলে অন্যরা জানবে কি করে যে আপনি লেখেন? সে ক্ষেত্রে নিজে একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তবে উচিত হলো বিভিন্ন পত্রপত্রিকা,অনলাইন ম্যাগাজিন,ওয়েবপোর্টাল,সাময়িকীতে লেখা লিখে নিজেকে একটু চেনানো।
প্রশ্নঃ প্রেমকাহিনী লিখেছি তা কি পত্রিকায় দেওয়া যাবে? ছাপা হবে?

=> দেওয়া যাবে না তা নয় তবে সেটা যদি উপন্যাসের মত বিশাল কিছু হয় তাহলে দেওয়া যাবে না। এক দুই হাজার শব্দের প্রেমের ভালো গল্প হলে সাহিত্য পাতায় দেওয়া যাবে এবং ছাপাও হবে। আর ভুলেও প্রেম কাহিনী ছোটদের পাতায় বা সম্পাদকীয় পাতায় পাঠানো যাবে না। তবে সাহিত্য পাতায় দিলেও লেখা যত কম শব্দের হবে ততো ভালো। অনেক সময় স্থানের অভাবে ভালো লেখাও ছাপানোর সুযোগ থাকে না।
প্রশ্নঃ লেখার মান বাড়ানোর জন্য কি করা উচিত?

=> এটাতো বিখ্যাত লেখকদের কাছে করার মত প্রশ্ন। আমার উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না। তবে আমি যেটা করি সেটা হলো সেরা লেখকদের সেরা লেখা গুলো পড়ি এবং বুঝতে চেষ্টা করি কেন লেখাটি সেরা এবং ওই লেখাটি পড়ে কেন আমার ভালো লেগেছে। আমার লেখার মধ্যে কি কি ঘাটতি আছে যা লেখার মান কমিয়ে দিচ্ছে? সেগুলো বের করে শুধরে নিতে চেষ্টা করি।