‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ওয়েব ফিল্ম মুক্তির পর সত্যিই নেটওয়ার্কের বাইরে অভিনেতা শরিফুল রাজ। মুঠোফোন, অন্তর্জাল কোথাও নেই তিনি। কারণটা সবার জানা; তবে হাসপাতাল ছাড়ার পরেও খোঁজ নেই নায়কের।

এমন অবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় নেটওয়ার্কে পাওয়া গেল তাঁকে। হোয়াটসঅ্যাপে ভক্তের এডিট করা একটি ছবি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, ছবিটা কেমন? সেই ছবি প্রকাশ-উপযোগী না হওয়ায় পাঠকদের দেখানো সম্ভব হলো না। তবে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটবক্সে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, সেখানে শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সহকর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুল করেননি রাজ।

নায়ক কি এখন সুস্থ? শরিফুল রাজের উত্তর, ‘শরীরে এখন কোনও ব্যান্ডেজ নেই। এতটাই সুস্থ। কিছুদিন রেস্ট নেওয়ার পর বলা যাবে সুস্থ।’

ওয়েব ফিল্ম ‘গুনিন’ পরিচালকের সঙ্গে ব্যান্ডেজসহ হাত নিয়ে মিটিং করেছেন দেখলাম। এই কাজ দিয়েই তো নতুন করে কামব্যাক করছেন? অভিনেতার উত্তর, ‘এরই মধ্যে লুক টেস্ট শেষ করেছি। ১০ অক্টোবরের পর শুটে যাওয়ার কথা আছে। আমার চরিত্রের নাম রমিজ। গিয়াস উদ্দিন সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম বার কাজ করছি; উনি আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, সে কারণে আমি উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। উনার মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে পারছি, এটাই অনেক আমার জন্য। এ ছাড়া আমার বাড়ির এলাকায় প্রথম বার শুটে যাচ্ছি।’

দীর্ঘ সময় ‘দামাল’ সিনেমার জন্য লম্বা চুল রেখেছেন, সেই সাধের চুল এবার থাকছে? হাসতে হাসতে রাজের উত্তর, ‘চুল… রহস্য থাক।’
সিনেমায় তো নায়িকা পরিবর্তন হয়ে এখন পরী মণি। তাঁর কোন সিনেমা দেখেছেন? রাজ বলেন, ‘স্বপ্নজাল দেখেছি; সেখানে দারুণ অভিনয় করেছে। বাকিটা শুটিং শেষ করে বলব।’

আপনার একাধিক সিনেমা তো মুক্তির অপেক্ষায় আছে—‘হাওয়া’, ‘পরাণ’, ‘রক্তজবা’ ও ‘দামাল’। এগুলো থেকে সবার আগে ‘পরাণ’ মুক্তির সম্ভাবনা আছে। রাজের ভাষ্য, ‘আমি শুনেছি চলতি সপ্তাহেই সিনেমাটি সেন্সরে জমা পড়বে। তার পর মুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। দুই বছর আগে সিনেমাটির শুট করেছি। সেই পরিশ্রম পর্দায় দেখবে দর্শক; তাঁদের ভালো লাগলে পরিশ্রম সার্থক হবে।’

এই সিনেমাগুলো মুক্তির পর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যাবে বলে আপনি মনে করেন? ‘আমি পরিশ্রম করতে ভালোবাসি। কোনও কাজ শুরুর আগে সেটায় ডুবে থাকতে চাই। এই সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রেও সেটাই করেছি। এখন বাকিটা তো দর্শকের ওপর নির্ভর করছে। তাঁরা আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরাবেন না ডোবাবেন…’, দৃঢ় কণ্ঠে বলেন ‘আইসক্রিম’ ও ‘ন ডরাই’ সিনেমার নায়ক।

‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ ফিল্মে আলোচনায় এলেন। হাসপাতলে শুয়ে কি সেই আলোচনা দেখেছেন? রাজের জবাব, ‘আমি শুভাকাঙ্ক্ষী আর সহকর্মীদের ভালোবাসা দেখেছি। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা; আমরা সবাই প্রায় সুস্থ তাঁদের দোয়া ও ভালোবাসায়।’
আলাপচারিতার শেষ প্রশ্নে শরিফুল রাজকে বলা হলো, দর্শককে কিছু বলতে চান? রাজের উত্তর, ‘ফুল নেটওয়ার্ক নিয়ে ফিরছে শরিফুল রাজ।’