বজ্রপাত। প্রকৃতির এক ভয়ংকর সুন্দর। সুন্দর এই অর্থে যে, এমন দৃশ্য মানুষের চোখে বছরের সব সময় পড়ে না। শুধুমাত্র বর্ষার এই মৌসুমে মেঘের গর্জন হিসেবে পরিচিত ‘বজ্রপাত’ আমরা দেখতে পাই। বজ্রের গর্জন আর আকাশে চোখ ধাঁধানো স্ফুলিঙ্গ জানান দেয় রিমঝিম বৃষ্টির বার্তা। শীতের শুষ্ক প্রকৃতি যখন রুঢ় আচরণ করে ঠিক তখন বৃষ্টি আসে বজ্রের গর্জন দিয়ে। ইদানিং কালে এই বজ্রপাত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও অনেকের কাছে এটি বেশ উপভোগ্য। ঘন কালো মেঘে ঢেকে যাওয়া পৃথিবীকে হঠাৎ আলোকিত করে বজ্র যে ডাক দেয় তা শুনে চমকে উঠে হেসে দেন অনেকেই।

বর্তমান সময়ে বজ্রপাতে প্রাণহাণির ঘটনা বেড়েই চলেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিনই আসছে মৃত্যুর খবর। ২০২১ সালে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত চার মাসে সারাদেশে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালাপুর, নেত্রকোণা ও চট্টগ্রামে বজ্রাঘাতে প্রাণহানি বেড়েছে। তবে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ। কিন্তু কেনো এই বজ্রপাত? কী করণে হয় এটি? আর এ থেকে রক্ষা পেতে কীইবা করণীয়? সেই সব অসংখ্য প্রশ্নের জানা-অজানা তথ্য দিচ্ছি আজ।

বজ্র সম্পর্কে ভুল ধারণা
আসলে বজ্র সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশের ধারণাতেই ভুল। ছোটবেলা থেকে আমরা শিখে এসেছি মেঘে মেঘে ঘর্ষণে বজ্রপাত হয়। কিন্তু বিষয়টি ঠিক তা নয়। এ কথা শুনলে অনেকে হয়তো রেগেও যেতে পারেন। কিন্তু সত্যিই তাই। এটি মূলত চার্জ বা আধান। বজ্রপাত আসলে আয়নিত জলকণার ফলে ঘটে। তবে জলকণার আয়নিত হওয়ার কারণ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নানান মত দিয়েছেন।

বজ্রপাত সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতবাদ
ভূ-পৃষ্ঠের পানি যখন বাষ্প হয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন মেঘের নিচের দিকে ভারী অংশের সাথে জলীয়বাষ্পের সংঘর্ষ হয়। এর ফলে অনেক জলকণা ইলেকট্রন ত্যাগ কৃত হয়ে ধনাত্মক চার্জ এ পরিণত হয় এবং অনেক জলকণা সে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জে পরিণত হয়।

ডিসচার্জ প্রক্রিয়া ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যথা –
– একই মেঘের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ এর মধ্যে।
– একটি মেঘের ধনাত্মক চার্জ এর সাথে অন্য মেঘের ঋণাত্মক, আবার অন্য মেঘের ধনাত্মক চার্জ এর সাথে ওই মেঘের ঋণাত্মক চার্জ এর মধ্যে।
– মেঘের পজেটিভ আধানের ও ভূমির মধ্যে (একে ক্লাউড টু গ্রাউন্ড ডিসচার্জিং বলে)।

এ চার্জিত জলীয় বাষ্প মেঘে পরিণত হলে মেঘে বিপুল পরিমাণ স্থির তড়িৎ উৎপন্ন হয়। এ সময় অপেক্ষাকৃত হালকা ধনাত্মক আধান মেঘের উপরে এবং অপেক্ষাকৃত ভারী ঋণাত্মক চার্জ নিচে অবস্থান করে। মেঘে এই ২ বিপরীত চার্জের পরিমাণ যথেষ্ট হলে ডিসচার্জ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আরও পড়ুন : বজ্রপাতে ৪ মাসে ১৭৭ মৃত্যু: এসএসটিএএফ

ডিসচার্জিং এর ফলে বাতাসের মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক স্পার্ক প্রবাহিত হয়। এ বৈদ্যুতিক স্পার্ক এর প্রবাহই ‘বজ্রপাত’। কিন্তু সব বজ্র ভূপৃষ্ঠে পড়ে না। শুধু ক্লাউড টু গ্রাউন্ড ডিসচার্জিং এর ফলে সৃষ্ট বজ্রই ভূপৃষ্ঠে পড়ে।’

প্রশ্ন আসতে পারে- বায়ু বিদ্যুৎ অপরিবাহী, তাহলে বৈদ্যুতিক স্পার্ক এর ভিতর দিয়ে কিভাবে প্রবাহিত হয়?

বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী এটা ঠিক, তবে মেঘে থাকা স্থির তড়িৎ প্রায় ১০ মিলিয়ন ভোল্ট পর্যন্ত শক্তি উৎপন্ন করে, যা বাতাসের একটি অংশকে আয়নিত করে। এই আয়নিত পরিবাহী অংশ দিয়ে চার্জ প্রবাহিত হয়।

বজ্রপাতের সময় আলো ও শব্দ হওয়ার কারণ
বজ্রপাতের সময় আমরা যে আলো দেখতে পাই তা মূলত এই সরু চ্যানেলের আয়নিত পরমাণু থেকে বিকীর্ণ শক্তির তীব্র আলোক ছটা। এই সরু, আয়নিত ও বিদ্যুৎ পরিবাহী চ্যানেল তৈরীর সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ২৭০০০° c এবং চাপ প্রায় ১০-১০০ গুন পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু এই পুরো ঘটনাটি ঘটে এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ে। এ পরিবর্তন আশপাশের বাতাসকে প্রচন্ড গতিতে বিস্ফোরণের মতো সম্প্রসারিত করে। এর ফলে প্রবল শব্দ উৎপন্ন হয়। এই শব্দকেই আমরা বজ্রপাতের শব্দ হিসেবে শুনি।

পৃথিবীর সম্মিলিত চার্জ শূন্য (০) হলেও পৃথিবীর পৃষ্ঠে ও কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন চার্জ থাকে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীর কেন্দ্রে তীব্র চাপ ও তাপ থাকে। আমরা জানি, কোনো পদার্থের পরমাণুতে থাকা ইলেকট্রন তাপ গ্রহণ করে নিম্ন শক্তিস্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে যায় এবং তাপ অনেক বেশি হলে তা কক্ষপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। ফলে পরমাণুটি ধনাত্মক আধানে পরিণত হয়। পৃথিবীর কেন্দ্রে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় অনুরূপ ঘটে। ফলে পৃথিবীর কেন্দ্র ধনাত্মক চার্জ এবং ভূপৃষ্ঠে বা তার সামান্য নিচে থাকা বস্তুর পরমাণু ওই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জ এ পরিনত হয়। এই ঋণাত্মক চার্জ এর সাথে ডিসচার্জ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মেঘের উপরের পৃষ্ঠের ধনাত্মক চার্জ-ই ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে।

বজ্রপাতের শক্তি
ভূমি থেকে ৩ মাইল দূরত্বের বজ্রপাত ১ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি উৎপন্ন করে। বৈদ্যুতিক শক্তি পরিমাপক একক ‘কিলোওয়াট/ আওয়ার’। এ হিসেবে এ শক্তি ২৭,৮৪০ কিলোওয়াট/আওয়ার।

বাংলাদেশে একটি পরিবার গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০০-১৫০ ইউনিট (কিলোওয়াট-আওয়ার) বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে। তার মানে একটি বজ্রপাতের বিদ্যুৎ শক্তি জমা করতে পারলে একটি পরিবার ১৮৫ মাস বা, প্রায় ১৫ বছর বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যাবহার করতে পারবেন।

চাইলে আপনিও বজ্রপাতকে ট্র্যাপে ফেলে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যাবহারের সুযোগ লুফে নিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে বজ্রপাত ঘায়েল করতে আপনি সময় পাবেন এক সেকেন্ডেরও কম। কারণ, বজ্রপাতের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে। তবে বসে নেই বিজ্ঞানীরা। বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তড়িৎ শক্তিকে ধারণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে বিজ্ঞানীরা উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এবং তা বাস্তবায়িত করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের দেশে বজ্রপাতের শিকার মানুষদের বড় অংশ কৃষক, যারা সবার মুখে অন্ন তুলে দিতে মাঠে যান। আর সেখানেই মরে পড়ে থাকেন। অথচ বিশেষজ্ঞরা সব সময়ই বলে আসছে- এসময় ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। আমাদের দেশের সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশে বজ্রপাত নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তাদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান। বাংলাদেশের একদিকে বঙ্গোপসাগর, এরপরই ভারত মহাসাগর। সেখান থেকে গরম আর আর্দ্র বাতাস আসছে। আবার উত্তরে রয়েছে পাহাড়ি এলাকা, কিছু দূরেই হিমালয় রয়েছে, যেখান থেকে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে। এই দুই বাতাসের সংমিশ্রণ বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ উদাসিনতা, অবহেলা, উপেক্ষা। বজ্রপাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরামের সদস্য সচিব গওহর নাঈম ওয়াহারার মতে, এই উপেক্ষার কারণে বজ্রপাতে মারা যায় সাধারণ মানুষ। তার মতে- কোনো পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা যেহেতু বজ্রপাতের শিকারে পরিণত হন না, তাই এটা নিয়ে তোড়জোড়ও কম।

তিনি বলেন, ‘বজ্রপাত কিন্তু সার্বিকভাবে উপকারী। আমাদেরকে কেবল প্রাণক্ষয় এড়াতে হবে। ভূমির উর্বরা শক্তিতে এর অবদান রয়েছে।’

বজ্রপাত থেকে প্রাণ ক্ষয় কমাতে হলে, যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তার কোনোটিই দেশে ঠিকঠাক মতো হয় না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গলদ শুরু হয় খোদ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস থেকেই।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে যে তিনটি ধাপের কথা বলা হয়, তার প্রথমেই রয়েছে পূর্বাভাস। তবে খোদ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজ্রপাত বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল মান্নানের মতে, আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে যেভাবে পূর্বাভাস দেয় সেটা খুব একটা কার্যকর নয়।

তিনি বলেন, ‘কারণ আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বলি, এই এলাকায় বজ্রপাত হতে পারে বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এখন সকাল কয়টা থেকে কয়টায় হবে-সেটা নির্ধারণ করা বাংলাদেশের কনসার্নে কঠিন কাজ।’

এ ধরনের সর্তকতাও মানুষ শোনে না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘সময় ও স্থান সুনির্দিষ্ট করে আমাদের ওয়েবসাইটে কিছু তথ্য দেয়া থাকলেও এগুলো সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করার মতো পর্যাপ্ত সময় আমরাও যেমন ব্যয় করতে পারছি না, কোনো সেক্টর থেকেও সেভাবে করা হচ্ছে না। যার কারণে অনেকে জানেই না, আবহাওয়ার পূর্বাভাস আছে কিনা। তবে বর্তমানে একেবারে সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, তাৎক্ষণিক সতর্কতার এই বিষয়টাকে বলা হয় নাউকাস্টিং।

তিনি বলেন, ‘এ ধরণের ফ্রিকোয়েন্সিয়াল ব্যবস্থাপনার জন্য অনেক উচ্চ প্রযুক্তি দরকার। একটা পাওয়ারফুল কম্পুটেশন দরকার, একইসাথে দক্ষ লোক দরকার। এগুলোর সংযোগ করা গেলে এই ধরণের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব। এরপর এই খবর ছড়িয়ে দিতে এলাকায় এলাকায় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে এবং মানুষকে রেসপন্সও করতে হবে।’

মৃত্যুর হার কমাতে উপকূলীয় এলাকার দৃষ্টান্ত টেনে এনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমার কারণ কেবল আগাম সতর্কবার্তা ও ব্যবস্থাপনা নয়। স্থানীয়দের সচেতনতাও দরকার। দক্ষিণাঞ্চলে সতর্কতার সময়ে কেউ সাইক্লোন সেন্টারে না গেলে পুলিশ দিয়েও নিয়ে আসা হয়।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাভাস জানার প্রযুক্তিটা আমাদের ক্ষেত্রে এফেক্টিভ নাই। আমাদের দরকার স্ট্রং রাডার নেটওয়ার্ক ও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস পেতে হলে রাডারের সাথে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে।’

ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরামের সদস্য সচিব গওহর নাঈম ওয়াহারার মতে, ‘এক সময় আমাদের গ্রামে-গঞ্জে মাঠের মধ্যে গাছ থাকতো। কিন্তু আমরা এসব গাছ কেটে ফেলেছি। সেটা তালগাছই হোক বা অন্য গাছ। এসব গাছ আবার লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেই গাছ লাগাচ্ছে রাস্তার পাশে। এটা দিয়ে কিছুই হবে না। দ্রুত বর্ধনশীল গাছ লাগাতে হবে। লাগানোর জায়গাটা হতে হবে বিলের মাঝখানে। খোলা জায়গার মাঝখানে। তাহলেই সেটা বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে পারবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা
বজ্রপাত একটি আকস্মিক ঘটনা, যা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। যদি (বজ্রপাত) হয়ে যায় তাহলে অনেকের মৃত্যু হতে পারে। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে মৃত্যু ও হতাহত এড়াতে কিছু সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছেন অধ্যাপক রোবেদ আমিন। সেগুলো হলো :

১. বজ্রঝড় সাধারণত ৩০-৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময়টুকু ঘরে অবস্থান করুন। অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে বাইরে যাবেন, এটি বজ্রঝড় বা বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দেবে।

২. বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলামাঠে যদি থাকেন তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে।

৩. বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে যতো দ্রুত সম্ভব ভবন বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে যাওয়া উচিত হবে না।

৪. বজ্রপাতের সময় যেকোনো ধরনের খেলাধুলা থেকে শিশুকে বিরত রাখতে হবে, ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে হবে।

৫. খালি জায়গায় যদি উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ধাতব পদার্থ বা মোবাইল টাওয়ার থাকে, তার কাছাকাছি থাকবেন না। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে থাকা বিপজ্জনক।

৬. বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়া উচিত। সমুদ্র বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

৭. যদি কেউ গাড়ির ভেতর অবস্থান করেন, তাহলে গাড়ির ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না।

যা করা জরুরী
– বজ্রপাতের ১৫ মিনিট আগেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানতে পারে কোন কোন এলাকায় বজ্রপাত হবে। এটাকে মোবাইল মেসেজ আকারে সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

– ঝড়/জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগে মানুষের মৃত্যুর হার যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যুর হার বজ্রপাতে। এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘোষণা করলেও এই খাতে বরাদ্দ কম। মানুষের জীবনরক্ষার্থে এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

– মাঠে, হাওর, বাওরে বা ফাঁকা কৃষি কাজের এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। তার উপরে বজ্রনিরোধক স্থাপন করতে হবে যেন বজ্রপাতের সময় কৃষকগণ সেখানে অবস্থান বা আশ্রয় নিতে পারে।

– বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেমের সকল পণ্যে শুল্ক মওকুফ করতে হবে।

– সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বজ্রনিরোধক স্থাপনের ঘোষণা দিতে হবে।

– বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা/ থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেম যুক্ত না থাকলে নতুন কোনো ভবনের নকশা অনুমোদন করা যাবে না।