ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমণির বিচারভোগান্তি নিয়ে উচ্চ আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। তিন দফা রিমান্ড প্রদান ও জামিন দেয়ার দীর্ঘসূত্রতায় নিম্ন আদালত ও তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত এ আদেশ দেন। পরীমণির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের কারণ জানতে চেয়েছেন তারা। ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে ১০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। রিমান্ড নিয়ে এভাবে ম্যাজিস্ট্রেটদের জবাবদিহিতা করার উদ্যোগ প্রথম দেখা গেল এ দেশে।

ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাপারে আদালত আরো বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করার আগে কিভাবে তারা সন্তুষ্ট হলেন? একই বেঞ্চ দুই দিন আগে পরীমণির বিচারিক পীড়ন নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘রিমান্ডের উপাদান ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা প্রার্থনা দিলেন, আপনি (ম্যাজিস্ট্রেট) মঞ্জুর করে দিলেন, এগুলো কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। রিমান্ড অতি ব্যতিক্রমী বিষয়।’

অন্য দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নথিসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও আইন লঙ্ঘন করে পরীমণিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে নাগরিকদের অধিকার বেআইনি পন্থায় খর্ব করা যায় না। আদালত এ সময় বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ স্মরণ করেন। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।’ সংবিধানের এ ধারাটি যদি প্রতিটি পুলিশ স্টেশন, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য সব বাহিনীর কুঠুরিগুলোতে উৎকীর্ণ করা থাকত। ধারাটি রক্ষা করা হচ্ছে কি না সে জন্য একদল অভিভাবক প্রতিনিয়ত কাজ করত কতই না ভালো হতো। আদালত প্রসঙ্গক্রমে বলেন, প্রথম দফা চার দিন রিমান্ডের পর তদন্ত কর্মকর্তা এমন কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলেন যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। আদালত তাদের ব্যাপারে আরো বলেন, অপরাধ এককভাবে পুলিশের জন্য সমস্যা নয়, সমাজের সমস্যা। কারো রিমান্ড চাওয়ার আগে পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনি ও মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রথমে চিন্তা করতে হবে।

২০০৩ সালে রিমান্ড নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত প্রথম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর প্রায় দুই দশক পার হয়ে গেছে। ঘটে গেছে বহু ঘটনা। আবার রিমান্ড ইস্যুটি একজন চিত্রনায়িকা প্রসঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি কাড়ল। ১৯৯৮ সালে ডিবি অফিসে মারা যান একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) একটি রিট করেছিলেন। তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেন। আদালত ওই সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষের একতরফা অধিকার হরণ রোধে রায় দেন। ২০১৬ সালে আগের রায়টি আবারো বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। দুঃখজনক হচ্ছে, সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ এই দীর্ঘ সময়ে অনেক বেড়েছে। বিগত দুই দশকে বিশেষ করে গত দশকে মানুষের ওপর নিপীড়নের সীমা পরিসীমা ছিল না। রিমান্ড ও হেফাজতে নির্যাতন এ সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অথচ উচ্চ আদালতের অসাধারণ ১৫টি নির্দেশ এর মধ্যে বহাল ছিল শুধু কাগজপত্রে।

এসব নির্দেশনা যদি মানা হতো বহু মানুষ হত্যা নিপীড়ন নির্যাতন থেকে বেঁচে যেতেন হয়তো। এগুলোর মধ্যে ছিল ‘আটকাদেশ দেয়ার জন্য কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে না। গ্রেফতার দেখানোর সময় পুলিশ পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে লিখতে হবে। আটক ব্যক্তিদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারি সনদ সংগ্রহ করবে। ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে। বাসাবাড়ি ছাড়া অন্য জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হলে ১ ঘণ্টার মধ্যে নিকটাত্মীয়কে জানাতে হবে। তাকে বিচারিক কার্যক্রমের জন্য আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজন হলে কাচনির্মিত ঘরে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট আসামির নিকটাত্মীয়ের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এর আগে ও পরে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করবেন। বোর্ড যদি জানায় যে, তার ওপর নির্যাতন হয়েছে তা হলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৩৩০ ধারায় তাদের অভিযুক্ত করবেন। কেউ যদি হেফাজতে মারা যান, তা হলে সাথে সাথে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন। এ ব্যাপারে আত্মীয়রা কোনো অভিযোগ করলে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

বিগত দিনগুলোতে রিমান্ড সুনামির মতো ব্যবহার হতে দেখা গেছে। ইচ্ছামতো রিমান্ড চাওয়ার সংস্কৃতি চালু করে পুলিশ। রিমান্ড মঞ্জুরেরও মাত্রাতিরিক্ত প্রবণতা দেখা গেছে। অথচ রিমান্ডসংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ কারণে কেউ দেশের আইন ভঙ্গ করেছেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্টরা এখন বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

রাজনৈতিক গোলযোগের বছরগুলোতে রিমান্ড ও বিচার ভোগান্তির এক নতুন নৈরাজ্য বাংলাদেশে লক্ষ করা গেল। হেফাজতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান উল্লেখ করলে এ ব্যাপারে আমরা ধারণা পাবো। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিসাবে বিগত দুই দশকে দেশে প্রায় চার হাজার মানুষ বিচারবহিভর্‚ত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতি বছর ২০০ করে মানুষ এর শিকার হয়েছে। এতগুলো ঘটনার পরও রিমান্ড চলছে; হেফাজতে মৃতু্যু অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। একটিমাত্র ঘটনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার হয়েছে। ২০১৪ সালে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামে একজনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এ জন্য গত বছর তিন পুলিশকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেখা গেল না।

রিমান্ড কত দিন দেয়া হবে এ ব্যাপারে কোনো আইন মানা হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, পুলিশের যা খুশি তাই এ ক্ষেত্রে ‘নিয়ম’। তারা কারো কারো বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ এমনকি মাসের অধিক রিমান্ড চেয়েছেন। রিমান্ড চাওয়ার মতো পুলিশের ‘ব্লাঙ্ক চেক’টির কোনো লাগাম ছিল না। বহু মানুষের নিজেদের অসহায়ত্ব রোধ করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার কাউকে পাশে পায়নি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনেক কিছুর স্বীকৃতি দেয়। রিমান্ডের রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তারা কোনো উদ্যোগ নেবে কি না জানা নেই। বাংলাদেশে কেউ কেউ প্রায় দুই মাস পর্যন্ত পুলিশের রিমান্ডে ছিলেন। ‘রিমান্ড’ মানে জামাই আদর নয়। আমাদের দেশে রিমান্ড নিয়ে কিছু শব্দ চাউর হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ওয়াটার থেরাপি, শক ট্রিটমেন্ট ও এগ ট্রিটমেন্ট। এসব শব্দ শুনতে হাস্যরসের সৃষ্টি হতে পারে। তবে বাস্তবতা ছিল মরণসম ভয়াবহ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নেমে এসেছিল ‘নরকের যন্ত্রণা’। দীর্ঘ রিমান্ডের পর যখন ওই সব ব্যক্তিকে আদালতে আনা হতো তারা আর নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারতেন না। অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে তাদের আসতে হতো। আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য কারো কারো প্রয়োজন হতো স্ট্রেচারের। এমনকি অনেককে পঙ্গু হয়ে যেতে হয়েছে। অনেকে সারা জীবনের জন্য হয়ে গেছেন অকর্মণ্য।

প্রশ্ন উঠতে পারে, বিদ্যমান রাষ্ট্র এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে কোন শ্রেণীর ওপর। তারা কি মহা অপরাধী? তারা কি দেশ বিক্রি করে দিচ্ছিল? সম্ভবত সরকার তাদের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রমাণও দেখাতে পারবে না। এ নিপীড়ন কি আলোচিত সাহেদ-সাবরিনাদের ওপর চালানো হচ্ছে? তারা দেশকে নিয়ে রীতিমতো জুয়া খেলায় মেতে উঠেছেন। কেউবা স্বাস্থ্য খাতকে ধসিয়ে দিচ্ছেন। দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বসে আপসে হাতিয়ে নিচ্ছেন অঢেল সরকারি অর্থ। অন্য দিকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে করছেন সর্বনাশ। আবার কেউ দিয়ে দিচ্ছেন করোনার নকল সনদ, যে সনদ দিয়ে আমরা বিশ্বদরবার থেকে কুড়িয়েছি দুর্নাম। ব্যাংক খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চলছে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম। অবৈধ মাদক ও অনাচার দিয়ে শেষ করে দেয়া হচ্ছে যুবসমাজকে। প্রকাশ্যে রাস্তা থেকেও স্বামীর কাছ থেকে তুলে নিয়ে করা হয়েছে ধর্ষণ। এ ধরনের ঘটনা একটি-দু’টি নয়, অসংখ্য। এদের কি দুই মাস করে রিমান্ড দেয়া হচ্ছে? খোঁজ নিয়ে দেখুন, হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতনে মৃত্যু, রিমান্ডে জীবনীশক্তি হারিয়ে ফেলেছে- এ তালিকায় এমন কারো নাম নেই। এরা এ শ্রেণীর ঘৃণ্য অপরাধী নয়। প্রধানত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রিমান্ডের ব্যবহার হয়েছে। রাষ্ট্রব্যবস্থা তার এই নাগরিকদের কোনো প্রতিকার দিতে পারেনি।

২০০৩ সালে রিমান্ডসংক্রান্ত উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশ পালিত হচ্ছে কি না, তা যদি কেউ তদারকি করতেন জাতির অভিভাবক হয়ে অনেক মানুষ চরম নির্যাতনের হাত থেকে বেঁচে যেতেন। এমনকি হয়তো আজ পরীমণির উপর্যুপরি রিমান্ডে ও জামিন আবেদন বিলম্বিত হয়ে হয়রানির শিকার হতে হতো না। পরীমণি দেশের একজন সম্মানিত নাগরিক। সবার মতো আইন পাওয়ার সমান অধিকার তার রয়েছে। উচ্চ আদালত সময়মতো তার পক্ষে দাঁড়িয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করলেন; অভিভাবক হলেন। পরীমণির বিরুদ্ধে কেউ কেউ নানা অনৈতিকতার অভিযোগ আনছেন। এর মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিক জীবনযাপন; মধ্য রাতে ক্লাবে যাওয়া; উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেল, তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অন্তরঙ্গ ভালোবাসা বিনিময় করছিলেন। সেটি কোনো সিনেমার দৃশ্য ছিল না। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্কও ছিল না। সে ঘটনায় পুলিশের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলেন। আরো বহু অভিযোগ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ থাকার মানে এই নয় যে, তার মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে কিংবা বিচারের নামে হয়রানি করা যাবে।

পরীমণির বিচারের গতিটি ঘুরে যাওয়ার মধ্যে আশাবাদী হওয়ার উপাদান আছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিচারের গতি অনেক শক্তিশালী হয়ে বিপরীত দিকে ফিরেছে। তার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা গড়ে ওঠা সোজা কথা নয়। মামলাটি পরিচালনা করতে গিয়ে এমন বড় কিছু তিনি করেছেন যে, তার ২৫ বছরের দেশসেবা বিবেচনা করার প্রয়োজন মনে করেনি প্রশাসন। আমরা আশা করব রিমান্ড, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুসংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পালা সবে শুরু হলো। আমরা কারো বিরুদ্ধে অন্যায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হোক, তা চাই না। যে যতটুকু অপরাধ করেছে, ততটুকু বিচার করাই যথেষ্ট।

আইনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নই। পেশাগত দায়িত্ব থেকে লিখি। জানতে পারলাম, আইনের বইতে ‘রিমান্ড’ নামক কোনো শব্দ নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির দু’টি ধারায় এর উল্লেখ রয়েছে। এ শব্দটির স্পষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে দেয়া হয়নি। আমাদের প্রশ্ন, মানুষের বিচার পাওয়ার জন্য রিমান্ডের যেখানে নামগন্ধ নেই; বিশেষজ্ঞরা এটি একটি টুল হিসেবে প্রস্তাব করেননি; আমাদের দেশে সেটি কিভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে গেল? যতদূর জানা যাচ্ছে, রিমান্ড একটি অপশনাল, নমিনাল বা আইনের ক্ষেত্রে একেবারে কম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ বিবেচিত হলে, পুলিশ কর্মকর্তা যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কাজ সমাপ্ত করতে না পারেন, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সে ব্যক্তির রিমান্ড চাইতে পারেন। আসামির অপরাধ সংঘটন বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পাওয়ার পর যদি মনে হয়, আরো অধিক তথ্য পাওয়া যাবে সে ক্ষেত্রে মামলার তদন্ত ও বিচার চলাকালে রিমান্ড দেয়া যাবে। যে কারণে পরীমণির মামলায় উচ্চ আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার রিমান্ড দেয়া হলো? আমরা আশা রাখব, এ যাত্রায় রিমান্ডের একটি সুরাহা হবে; অন্তত আর একজন মানুষও যাতে এর শিকার না হন।
[email protected]