কদিন ধরে গুঞ্জন চলছে, আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। জায়েদ খানের প্যানেলে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই খল অভিনেতা। তবে বুধবার দুপুরে কালের কণ্ঠ অনলাইনকে বিষয়টি একেবারে নাকচ করে দিলেন। বললেন, ‘শুধু শিল্পী সমিতি কেন, জীবনে আর কোনো নির্বাচনই করমু না।’

ডিপজল নির্বাচন করবেন এমন খবর কোনো কোনো গণমাধ্যমে এসেছে উল্লেখ করে ডিপজল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করুম আর আমিই জানি না, এইডা কেমুন কথা? আমার সাথে কেউ কথা না কইয়া নিউজ ছাপায় কিভাবে, আমার সাথে কথা কইলেই তো জিনিসটা দিনের মতো পরিষ্কার হইত।’

কেন নির্বাচন করবেন না? এর জবাবে ডিপজল কালের কণ্ঠ অনলাইনকে বলেন, ‘আমার শরীর ঠিক নাই। ওপেন হার্ট সার্জারি করছি, কয়দিন আগে চক্ষু অপারেশন করাইলাম। শরীর ফিট নাই ভাই। এখন আর নির্বাচনের চিন্তা করি না। শিল্পী সমিতি শুধু না, কোনো নির্বাচনই করব না। ভাবছিলাম সংসদ নির্বাচন করব, কিন্তু এখন আর কোনো পরিকল্পনা রাখি না। আমার শরীরটা ভালো না। ভালো হইলেও নির্বাচন করব না। আমার জন্য দোয়া করবেন।

পরীমনি আটকের ঘটনায় ডিপজলকে এফডিসিতে দেখা গিয়েছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। পরীমনি প্রসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বক্তব্য দেন।

মনোয়ার হোসেন ডিপজল ১৫ জুন ১৯৫৮ সালে ঢাকার মিরপুরের বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। তিনি ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া সিনেমা হল, পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী।

তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সক্রিয়। প্রথমে খল চরিত্রে অভিনয় করলেও চাচ্চু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ভালো চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ডিপজল ঢাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন ১৯৯৪ সালে। তার বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা তার নামে (ডিপজল পরিবহন) বাস সার্ভিস চালু করেন।

ডিপজল ১৯৮৬ সালে টাকার পাহাড় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। ডিপজলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা, যিনি বাদশা ভাই নামে পরিচিত, তিনি সান পিকচার্সের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। পরিচালনা করেন মনতাজুর রহমান আকবর। আকবরেরও এটি পরিচালিতো প্রথম ছবি। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে।

২০১৭ সালে ডিপজল ঢাকার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। সেখানেই অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিলেন ডিপজল। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে চলচ্চিত্র সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। বেশ কয়েকটি নতুন সিনেমা নির্মাণও শুরু করেন। আগস্টের ৯ তারিখে চোখের অস্ত্রোপচার হয় ডিপজলের।