অনেকেই সকালটা শুরু করেন এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি বা চায়ের সঙ্গে। এতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই দিনটা শুরু হোক এক গ্লাস গরম পানিতে দুই চামচ লেবুর রস দিয়ে। চাইলে আপনি এক চামচ মধুও যোগ করতে পারেন। জেনে নেওয়া যাক, কেন এই পানীয় দিয়ে শুরু করবেন আপনার দিন।

ছবি: পেকজেলসডটডটকমকম
সকালে খালি পেটে ৪০০ মিলিলিটার পানি খেলে তা বিপাকক্রিয়ার হার বাড়ায়। ফলে সারা দিনে আপনি যা খান, তা সহজে হজম হয়। লেবুপানির বদলে লেবুর খোসা চিবিয়ে খেলেও তা হজবে সুবিধা করবে। সকালে খালি পেটে লেবু–মধু–পানি খেলে কম ক্ষুধা লাগে। খাওয়ার পরিমাণও কমে যায়। ফলে কম ক্যালরি খাওয়া হয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

লেবুর রস গরম পানি দিয়ে পান করতে খারাপ লাগলে এর সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন মধু ও সামান্য লবণ। কোষ্ঠকাঠিন্যকে বিদায়ের জন্য এটি খুবই কাজে দেয়। সারা দিন সতেজ রাখে সকালের গরম লেবুপানি।

ছবি: পেকজেলসডটকম
ছবি: পেকজেলসডটকম
তবে শুধু লেবু–মধু–পানি পান করলে ফ্যাট ক্ষয় হয় বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চর্বি ক্ষয় করার জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। আর ক্যালরি ক্ষয় বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম। তবে লেবুপানি খেয়ে ব্যায়াম করলে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ বাড়ে। তাই লেবুপানি, খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়াম—সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

রাতে দুই প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ঘুমিয়ে উঠে লেবুপানি খেয়ে ভাবেন যে সব ক্যালরি উড়ে যাবে, সেটা ভুল। লেবুপানির সঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়াম দুটিই জরুরি।
লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। তাই লেবুপানি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেয়। আবার গবেষকদের মতে, ভিটামিন সি বলিরেখার পড়তে দেয় না। ভিটামিন সির কোলাজেন ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে।

তবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি থাকায় লেবু দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর। তাই লেবুপানি পান করলে অবশ্যই কুলি করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। আর যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তারা এড়িয়ে চলবেন বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লেবুপানি পান করবেন।