ভারী বর্ষণ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ শনিবার যমুনায় পানি বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম।  গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৭  সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ শুক্রবার সন্ধ্যায় পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী দু’দিন যমুনার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এর পরে কমবে।

এদিকে, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ সকল নদ-নদী ও চলন বিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। গত ৩ সপ্তাহে কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর এই পাঁচটি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে এক লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হানিফ জানান, জেলার নিম্নাচলে পানি প্রবেশ করায় ইতোমধ্যেই ৭ হাজার ৬২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, বোনা আমন, আগাম জাতের সবজি, আখ, বীজতলা ও বাদাম।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম।

বন্যা পূর্ভাবাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি আরও দু’দিন অব্যাহত থাকবে। দুদিন পর থেকে পানি কমতে শুরু করবে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, বন্যা মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্ততি রয়েছে। ৫৪১ মেট্রিক টন চালসহ ডাল, শুকনো খাবার প্রস্তত করে রাখা হয়েছে। এছাড়া নগদ এক কোটি ৮২ লাখ টাকা হাতে রয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত উপজেলা সমুহে খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ৭৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।