সুদের শাস্তি কি
আল্লাহ ও তার নবী মোম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআন ও হাদিসে সুদের শাস্তি কি এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে গেছেন। যা আমরা হক্কানী উলামায়ে কেরামদের থেকে শুনে থাকি।

কিন্তু তা দেখতে কেমন তা কিন্তু বর্ণনা করা হয় নাই। তাই আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বন্ধু হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বশরিরে মেরাজ রজনীতে

নানা শ্রেণির অপরাধীর করুণ পরিণতি বা শাস্তি প্রত্যক্ষ করেন। যার বিবরণ নির্বরযোগ্য হাদিসের ও সীরাতগ্রন্থগুলোতে আছে। উদাহরণ স্বরূপ সুদখোর লোকদের কথা উল্লেখ করতে চাই।

কেননা এটা এমন একটি পাপ যার কারণে সমাজের জীবন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এ পাপীরা জাহান্নামে কিভাবে শাস্তি ভোগ করছে, এবং সামনে ভোগ করবে তা সরাসরি দেখে এসেছেন

খোদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজে তাই আজ আমরা উম্মুল খাবায়েছ অর্থাৎ সুদখোর সম্পর্কিত কিছু আয়াত ও হাদীস বলব।

ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন:

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لاَ يَقُومُونَ إِلاَّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ

ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُواْ إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

فَمَن جَاءهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىَ

فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ

هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়।

তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্র য় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্র য় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।

অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে,

পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে।

তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। সুরা বাকারা ২:২৭৫

সূদ এর আভিধানিক অর্থ ও সুদের শাস্তি কি
الربا (সূদ) এর আভিধানিক অর্থ হল, বাড়তি এবং বৃদ্ধি। শরীয়তে সূদ দুই প্রকার; ‘রিবাল ফায্ল’ এবং ‘রিবান নাসীয়াহ’। ‘রিবাল ফায্ল’ সেই সূদকে বলা হয়

যা ছয়টি জিনিসের বিনিময়কালে কমবেশী অথবা নগদ ও ধারের কারণে হয়ে থাকে। যার বিশদ বর্ণনা হাদীসে আছে:

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ…عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏

التَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْحِنْطَةُ بِالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مِثْلاً بِمِثْلٍ يَدًا بِيَدٍ

فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى إِلاَّ مَا اخْتَلَفَتْ أَلْوَانُهُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ও ওয়াসিল ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিমযে যব ও লবনের বিনিময়ে লবন সম পরিমাণ ও হাতে হাতে হতে হবে।

কেউ যদি বেশী দেয় বা বেশী নেয় তবে সুদ হবে। তবে যদি এর প্রকার (পণ্য) পরিবর্তন হয়। (তবে কম বেশী জায়িয হবে)।

যেমন, গমের পরিবর্তন যদি গম দ্বারা করা হয়, তাহলে প্রথমতঃ তা সমান সমান হতে হবে এবং দ্বিতীয়তঃ তা নগদ-নগদ হতে হবে।

এতে যদি কমবেশী হয় তাও এবং নগদ নগদ না হয়ে যদি একটি নগদ এবং অপরটি ধারে হয় অথবা দু’টিই যদি ধারে হয় তবুও তা সূদ হবে।

আর ‘রিবান নাসীয়াহ’ হল, কাউকে ছয় মাসের জন্য এই শর্তের ভিত্তিতে ১০০ টাকা দেওয়া যে, পরিশোধ করার সময় ১২৫ টাকা দিতে হবে। ছয় মাস পর নেওয়ার কারণে ২৫ টাকা বাড়তি নেওয়া।

কোন ঋণ সূদ এর অন্তরভূক্ত এবং সুদের শাস্তি কি
আলী (রাঃ)-এর এ সম্পর্কিত একটি উক্তিতে এটাকে ঠিক এইভাবে বলা হয়েছে,

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ رِبَا

যে ঋণ কোন মুনাফা টেনে আনে, তা-ই সূদ।

এই ধার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য নেওয়া হোক অথবা ব্যবসার জন্য উভয় প্রকার ধারের উপর নেওয়া সূদ হারাম।

জাহেলিয়াতের যুগে এই ধারের প্রচলন ছিল। শরীয়ত উভয় প্রকারের ধারের মধ্যে কোন পার্থক্য না করে দু’টোকেই হারাম করে দিয়েছে। সুতরাং যারা বলে, ব্যবসার জন্য যে ঋণ (যা সাধারণতঃ ব্যাংক থেকে) নেওয়া হয়,

তাতে যে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তা সূদ নয়। কারণ ঋণগ্রহীতা তা থেকে উপকৃত হয় এবং সে তার (লাভের) কিয়দংশ ব্যাংক অথবা ঋণদাতাকে ফিরিয়ে দেয়।

অতএব এতে দোষের কি আছে? এতে কি দোষ আছে তা এমন আধুনিক শিক্ষিত মানুষের নজরে পড়বে না, যারা এটাকে বৈধ সাব্যস্ত করতে চায়।

তবে মহান আল্লাহর দৃষ্টিতে তাতে বহু দোষ বিদ্যমান রয়েছে। যেমন, ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকারীর লাভ যে হবেই তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

বরং লাভ তো দূরের কথা মূল পুঁজি অবশিষ্ট থাকবে কি না তারও কোন ভরসা নেই। কখনো কখনো ব্যবসায় সমস্ত টাকা-পয়সা ডুবে যায়।

পক্ষান্তরে ঋণদাতা ব্যাংক হোক অথবা সূদের উপর টাকা-পয়সা দেয় এমন যেই হোক না কেন তার লাভ একেবারে সুনিশ্চিত, তার লভ্যাংশ যে কোন অবস্থায় আদায় করতেই হবে।

এটা হল যুলুমের একটি প্রকাশ্য চিত্র। ইসলামী শরীয়ত এটাকে কিভাবে বৈধ সাব্যস্ত করতে পারে? শরীয়ত তো ঈমানদারদেরকে সমাজের অভাবীদের উপর

পার্থিব কোন লাভ ও উদ্দেশ্য ছাড়াই ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ দান করেছে। যাতে সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি, সহযোগিতা এবং দয়া-দাক্ষিণ্য ও প্রেম-প্রীতির উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

পক্ষান্তরে সূদী কারবারের ফলে সবদিক থেকে কঠোরতা এবং স্বার্থপরতার সৃষ্টি হয়। একজন পুঁজিপতির কেবল মুনাফাই উদ্দেশ্য হয়।

চাই সমাজে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিরা রোগ, ক্ষুধার জ্বালায় কাতরাতে থাকুক না কেন এবং বেকার ও কর্মহীনরা নিজেদের জীবন থেকে নিরাশ হয়ে যাক না কেন। এতে তাদের কোন পরওয়াই নাই।

এই বর্বরতা শরীয়ত কিভাবে পছন্দ করতে পারে
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:

يَمْحَقُ اللّهُ الْرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللّهُ لاَ يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ

আল্লাহ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে। [ সুরা বাকারা ২:২৭৬

সূদ বাহ্যিকভাবে দেখতে বৃদ্ধিশীল লাগলেও অভ্যন্তরীণভাবে অথবা পরিণামের দিক দিয়ে সূদের অর্থ ধ্বংস ও বিনাশেরই হয়। আর এ কথা যে অতি বাস্তব তা ইউরোপের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেছেন।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তিই সুদ হতে দূরে থাকতে পারবে না, যদি কেউ সুদ নাও নেয় তথাপি তার প্রভাব হতে কেউ মুক্ত থাকতে পারবে না। সকলের উপরই সুদের কিছু না কিছু প্রভাব পড়বেই।

সুরা আলে ইমরানে সুদের শাস্তি কি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُواْ اللّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। সুরা ইমরান আয়াত : ১৩০

وَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ

এবং তোমরা সে আগুন থেকে বেঁচে থাক, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সুরা ইমরান আয়াত : ১৩১

وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়। সুরা ইমরান আয়াত : ১৩২

যদি চক্রবৃদ্ধি হারে না হয় তাহলে সুদ জায়েয ?
চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খেতে নিষেধ করার অর্থ এই নয় যে, যদি চক্রবৃদ্ধি হারে না হয়, তাহলে তা খাওয়া জায়েয। বরং সূদ কম হোক বা বেশী,

ব্যক্তিবিশেষের নিকট থেকে হোক অথবা কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে, তা সর্বাবস্থায় হারামই। যেমন পূর্বেও আলোচিত হয়েছে।

সূদ হারাম হওয়ার জন্য এটা চক্রবৃদ্ধি হারে খাওয়া শর্ত নয়। বরং বাস্তব পরিবেশের দিকে লক্ষ্য করে এইভাবে বলা হয়েছে।

জাহেলিয়াতে সূদের সাধারণ প্রচলন এই ছিল যে, ঋণ পরিশোধ করার সময় এসে যাওয়ার পর তা পরিশোধ করা সম্ভব না হলে, তার (পরিশোধের) সময় বৃদ্ধি করার সাথে সাথে সূদও বর্ধিত হতে থাকত।

ফলে সামান্য অর্থও বাড়তে বাড়তে বহুগুণ হয়ে যেত এবং সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে তা আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। মহান আল্লাহ বললেন: সেই আগুনকে ভয় কর যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।

যে ধোকা দেয় সে মূলতঃ সুদখোর।
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ…سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ أَقَامَ رَجُلٌ سِلْعَتَهُ فَحَلَفَ بِاللَّهِ

لَقَدْ أُعْطِيَ بِهَا مَا لَمْ يُعْطَهَا

فَنَزَلَتْ ‏: إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً

وَقَالَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى النَّاجِشُ آكِلُ رِبًا خَائِنٌ‏.‏

ইসহাক (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক তার মালপত্র বাজারে এনে এবং হলফ করে বলল:

যে, এগুলো (খরিদ বাবদ) সে এত দিয়েছে, অথচ সে তত দেয়নি।

তখন আয়াত নাযিল হলঃ যারা নগণ্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথ বিক্রি করে …।

ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) বলেন, (দাম চড়ানোর মতলবে) যে ধোকা দেয়, সে মূলতঃ সুদখোর ও খিয়ানতকারী।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতগুলি বিষয়কে মানুষের ইহকাল ও পরকাল ধ্বংসকারী ‘কবীরা গুণাহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুদ তার মধ্যে অন্যতম।

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ…عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ ‏.‏

قَالَ قُلْتُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ قَالَ إِنَّمَا نُحَدِّثُ بِمَا سَمِعْنَا ‏.‏

উসমান ইবনু আবূ শায়বা … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোরের প্রতি ও সূদ প্রদানকারীর প্রতি লানত করেছেন।

রাবী বলেন, আমি বললামঃ এর লেখকের প্রতি ও সাক্ষীদ্বয়ের প্রতিও। তিনি বললেন, আমরা কেবল তাই বর্ণনা করি যা আমরা শুনেছি।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

চার ব্যক্তিকে বেহেশতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না:
(১) নিত্য মদ্যপায়ী,

(২) সুদখোর,

(৩) এতিমদের মাল আত্মসাৎকারী এবং

(৪) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।

সুদের শাস্তি কি এ সম্পর্কিয় হাদিস হজরত সোমরা ইবনে জুন্দুব (রা.) রেওয়ায়েত করেছেন, হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘মেরাজ রজনীতে আমি দেখতে পেলাম যে, একটি রক্তের নদী প্রবাহিত হচ্ছে। তার মধ্যে জনৈক ব্যক্তি হাবুডুবু খাচ্ছে…

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ…عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏

رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي، فَأَخْرَجَانِي إِلَى أَرْضٍ مُقَدَّسَةٍ، فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى نَهَرٍ مِنْ دَمٍ

فِيهِ رَجُلٌ قَائِمٌ، وَعَلَى وَسَطِ النَّهْرِ رَجُلٌ بَيْنَ يَدَيْهِ حِجَارَةٌ، فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ الَّذِي فِي النَّهَرِ

فَإِذَا أَرَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ

رَمَى الرَّجُلُ بِحَجَرٍ فِي فِيهِ فَرَدَّهُ حَيْثُ كَانَ

فَجَعَلَ كُلَّمَا جَاءَ لِيَخْرُجَ رَمَى فِي فِيهِ بِحَجَرٍ، فَيَرْجِعُ كَمَا كَانَ، فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقَالَ الَّذِي رَأَيْتَهُ فِي النَّهَرِ آكِلُ الرِّبَا ‏”‏‏.‏

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

আজ রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, দু’ব্যাক্তি আমার নিকট এসে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম।

নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যাক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায়,

তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায়

ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি নদীতে (রক্তের) দেখেছেন, সে হল সুদখোর।

কি কারণে মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয় ?
হজরত আমর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে জাতির মধ্যে সুদের প্রচলন হবে, সঙ্গে সঙ্গেই সে জাতিকে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে হবে।

যে জাতির মধ্যে ঘুষ বিস্তৃতি লাভ করবে, সে জাতি নৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে।

: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ…عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

: اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ‏‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا هُنَّ قَالَ

الشِّرْكُ بِاللَّهِ

وَالسِّحْرُ

وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ

وَأَكْلُ الرِّبَا

وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ

وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ

وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلاَتِ ‏‏.‏

আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,

সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। সাহাবীগন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি? তিনি বললেন,

(১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা।

(২) যাদু।

(৩) আল্লাহ তাআলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতীরেকে তাকে হত্যা করা।

(৪) সুদ খাওয়া।

(৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা।

(৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং

(৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।

কখন আল্লাহর গজব নাজেল হওয়া হালাল হয়ে যায়।
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

সুদখোর, সুদদাতা, সুদ সম্পর্কিত বিষয়ের লেখক ও সাক্ষী সকলেই সমান অপরাধী। আল্লাহ সকলের ওপর যেন অভিসম্পাত করেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

যখন কোনো অঞ্চলে সুদ খাওয়া ও জেনা (ব্যাভিচার) ব্যাপকভাবে চলতে থাকে, তখন সেই অঞ্চলের জন্য আল্লাহর গজব নাজেল হওয়া হালাল হয়ে যায়।

হজরত ইবনে মাসুউদ (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘কেয়ামতের পূর্বে সুদ খাওয়া, মদ্য পান ও জেনা অধিক বৃদ্ধি পাবে।

আমরা এ পযর্ন্ত সুদের শাস্তি কি সম্পর্কে যে আলোচনা করেছি তা থেকে উপকৃত হয়ে সুদ মুক্ত জীবন গড়ার তাওফিক আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে দান করুক। আমিন।